দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি ‘শান্তি ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। খবর আল আরাবিয়ার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে লি জে-মিয়ং বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনায় বসা উচিত।
তিনি ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপেরও আহ্বান জানান। ওই যুদ্ধ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে থেমে গেলেও এখনো কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। লি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, উত্তেজনা কমাতে তার সরকার আগাম ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেবে এবং পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
লি জে-মিয়ংয়ের এই আহ্বান মূলত গত বছর দেওয়া তার প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতা। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সম্মান করার এবং পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ অনুসরণের কথা বলেছিলেন।
তবে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির দীর্ঘদিনের পুনরেকত্রীকরণ নীতি থেকে সরে এসেছেন এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি সীমান্ত প্রতিরক্ষা আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, লি জে-মিয়ংয়ের দেওয়া সম্প্রীতির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘উসকানিমূলক’ কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ভাষণে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন লি। তিনি বলেন, অতীতের ইতিহাসের মুখোমুখি হতে হবে, তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার পথও খোলা রাখতে হবে। জাপানকে ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী’ উল্লেখ করে তিনি আগামী ৬০ বছর শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


